Header Ads

Header ADS

সড়কের কাজে ১৩১ কোটি টাকার ভৌতিক বিল

জাহিদুল ইসলাম

সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে বছরখানেক আগে। সব দায়দেনা পরিশোধের মাধ্যমে গত বছরের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ দেয়া হয়।
এর প্রায় আট মাস পর মার্চে বকেয়া পরিশোধের নামে অতিরিক্ত ১৩১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এর অনুকূলে বেশকিছু বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে, কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর বিল উপস্থাপন কাজ অস্বাভাবিক।
 এসব বিলকে ভৌতিক আখ্যায়িত করে অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব অনুমোদন করছে না মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি এডিপির বাইরে চলে যাওয়ায় এর আওতায় অর্থ বরাদ্দ সম্ভব নয়।
তাছাড়া সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে নতুন করে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করারও কোনো সুযোগ নেই।
অর্থ হাতিয়ে নিতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও 
আলোকিত বাংলাদেশ
ঠিকাদাররা যৌথভাবে বিল তৈরি করেছেন বলে দাবি করছেন তারা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। তবে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাতে পরিকল্পনা কমিশনের যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সমাপ্ত ঘোষণার এত দিন পর কেন অর্থ চাওয়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে সড়ক বিভাগের কাছে। এর জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির চেষ্টা করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশন সেটি কমিয়ে আনতে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। সড়কের বিল সংক্রান্ত বিষয়টির দায়িত্ব ভৌত অবকাঠামো বিভাগকে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদায়ী প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী মোঃ মফিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এর আগে কিছু ভুয়া বিল ছিল। এখন পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া বিলের মধ্যে ভুয়া নেই। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সড়ক বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পটির আওতায় দেশের সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক মেরামত করার কথা ছিল। ২৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও মোট ২০০টির ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ হয়েছে। ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এতে ব্যয় হয় প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি সব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রকল্পের সব কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে। প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়ে গেলেও এতে ঠিকাদারদের ১৩১ কোটি টাকা পাওনা আছে বলে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনকে জানায় সড়ক বিভাগ। এ প্রকল্পের আওতায় কাজ হওয়া সব প্যাকেজে এক লাখ থেকে কোটি টাকা বিল বাকি আছে বলে জানানো হয়েছে। তবে বেশি বাকি আছে ঢাকা জোনের আওতায়। প্রায় ৪৪ কোটি টাকার ঠিকাদারদের বিল বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকল্প সমাপ্তির প্রায় সাড়ে আট মাস পর মার্চের মাঝামাঝিতে সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটে এ প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের দাবি করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন তাতে রাজি হয়নি। এজন্য ২০ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ১৫টি প্রকল্প সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়াদ বৃদ্ধি না করে শেষ হওয়া প্রকল্প এডিপিতে যোগ করা নিয়ম পরিপন্থী। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকল্পটি সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে বিল জমা দেয়ার বিষয়টি আমাদের সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এজন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি। সমাপ্ত হওয়া প্রকল্পে কীভাবে এত দিন পর বিল এলো তার যথাযথ জবাব দিতে বলেছি। ওই জবাব এখনও পাইনি। জবাব পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনটি ২৪ মে ২০১৩ তারিখে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই লিংক ফলো করুন।

No comments

Theme images by Leadinglights. Powered by Blogger.